Friday, May 15, 2026

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগাম প্রার্থী ঘোষণা করে চমক এনসিপির


ছবিঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে আগাম মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট থেকে সরে আসছে এনসিপি?

দলটির নেতারা বলছেন, তারা আপাতত দুই দিকেই প্রস্তুতি রাখছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এককভাবে সাংগঠনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হলেও নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি বিবেচনায় জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সরকার এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা না করলেও চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সেই বাস্তবতায় আগেভাগেই মাঠ গোছাতে শুরু করেছে এনসিপি।

গত মার্চে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। পরে ১০ মে দেশের ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, আগামী দিনগুলোতে আরও বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করা সহজ হবে এবং প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে আগাম প্রস্তুতির কারণে জামায়াতে ইসলামীর যে সাংগঠনিক সুবিধা হয়েছিল, স্থানীয় নির্বাচনেও সেই কৌশল অনুসরণ করতে চাইছে দলটি।

তবে দলটির ভেতরে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশ মনে করছে, এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি। তাই জোটগতভাবে নির্বাচন করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, এককভাবে ভোটে গেলে দলের প্রকৃত শক্তি ও দুর্বলতা যাচাই করা যাবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলীয় মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে। ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এছাড়া কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেট সিটিতেও দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দুই দলের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছে। বিষয়টি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে দল সম্প্রসারণেও মনোযোগ দিচ্ছে এনসিপি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের দলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপি, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমির নেতারা ইতোমধ্যে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাঁদের মধ্য থেকেও যোগদানের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি দলটির।

এনসিপির নেতাদের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং সারা দেশে সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলারও বড় সুযোগ। তাই জোট হোক বা না হোক—দলটি এখন থেকেই মাঠ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন