- ১৫ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। সোমবার (১৫ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া এ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) উদ্যোগে চালু হওয়া এই কার্যক্রমে প্রতিটি বিদ্যালয়কে সকাল ৯টা ১০ মিনিটের মধ্যে হাজিরা খাতার ছবি তুলে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি উপস্থিত ও অনুপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখ করে তথ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রায় চার লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে এই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম তদারকি করা সহজ হবে।
নতুন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, বিদ্যালয় থেকে পাঠানো তথ্য প্রথমে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যাবে। পরে তা উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) এবং বিভাগীয় উপপরিচালকের (ডিডি) মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের একটি নির্ধারিত গুগল শিটেও তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের বিদ্যালয়গুলোর উপস্থিতির সার্বিক চিত্র কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর ফলে কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতি বা দায়িত্ব পালনে অনিয়ম থাকলে দ্রুত তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কর্মঘণ্টায় অনুপস্থিতির প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, উপস্থিতি সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন করা বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে।