- ০৯ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশের ক্ষমতা বাতিল করে আগের মতো নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ৩ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে অনুসরণীয় পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এনটিআরসিএর নাম বা আইনি কাঠামোয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। সংস্থাটির মূল দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন এবং উত্তীর্ণদের নিবন্ধন সনদ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। ফলে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মস্থল নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে নিজ বাড়ি বা এলাকার বাইরে শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর সুপারিশ পদ্ধতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের পরিবর্তে যদি স্থানীয় বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে নিজ জেলা বা উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ বাড়তে পারে।
এ কারণে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সুপারিশ এসেছে।
৩ আগস্টের সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এনটিআরসিএর কাছ থেকে নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা থাকলেও কবে থেকে নতুন পদ্ধতি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে প্রস্তাবটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়োগ পদ্ধতিই বহাল থাকবে।