Sunday, September 20, 2026

সৌদির সামরিক প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তুত তুরস্ক, সক্রিয় হতে পারে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট


ছবিঃ ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /বুরাক কারা/গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতায় যেসব ঘাটতি তৈরি হতে পারে, সেগুলো পূরণে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করবে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তুরস্ক এ বিষয়ে রিয়াদের পাশে রয়েছে।

শনিবার তুরস্কের বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফিদানের ভাষায়, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা চলছে। চুক্তির অংশীদার হিসেবে তুরস্ক এ বিষয়ে সৌদির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। বিশেষ করে সামরিক ও প্রযুক্তিগত কিছু ক্ষেত্রে রিয়াদের প্রয়োজন দেখা দিলে তা পূরণে আঙ্কারার আপত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সংঘাতরত পক্ষগুলোর সম্মতি প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত অবশ্য প্রকাশ করেননি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধা ও সৌদি আরবের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফিদান। তিনি বলেন, রিয়াদ এই যুদ্ধে জড়াতে চায় না এবং সৌদি আরবকে এমন একটি সংঘাতে টেনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে তারা নিজে অংশ নিতে আগ্রহী নয়।

সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সম্প্রতি আরব নিউজকে বলেছেন, প্রয়োজন হলে পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সর্বোচ্চ মাত্রায়, এমনকি সরাসরি সামরিকভাবেও পাশে থাকবে। তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, বর্তমানে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। প্রয়োজন দেখা দিলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইসলামাবাদ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে তারা।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। পরে ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকের পর তিন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম দেয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’। রিয়াদে জোটটির একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যার প্রথম মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তিটির মূল নীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে বাস্তবে কোনো দেশ আক্রান্ত হলে এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কাঠামো স্পষ্ট হয়নি।

বিশ্লেষকদের একাংশও জোটটির বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কমান্ড বা স্থায়ী যৌথ বাহিনী এখনো এই জোটের নেই। ফলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এদিকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন