Sunday, September 20, 2026

প্রান্তিক মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে এক নাগরিক এক ওয়ালেট: অর্থমন্ত্রী


ফাইল ছবিঃ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করতে শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থা, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল ওয়ালেট এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে টেকসই উন্নয়নের সুযোগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখার কথাও বলেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক গ্রুপ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুফল দেশের প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরি পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের উৎপাদকদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল লেনদেন ও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সংযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে দেশে কম দামের স্মার্টফোন উৎপাদনের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল সেবা ব্যবহার আরও সহজ হবে।

স্মার্টফোনের মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জমিতে প্রয়োজনীয় সারের পরিমাণ এবং কৃষিপণ্যের বাজারদরসহ বিভিন্ন তথ্য দ্রুত পেতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন সহায়তা ও ভাতা ব্যবস্থাকেও ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেন আমির খসরু। ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ছে বলে তিনি জানান।

তবে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পথ যেন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য একদিকে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুরক্ষাও গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আলোচকেরা ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থায়নে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়েও কথা বলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লেও জামানতের ঘাটতি, ঋণের ব্যয়, নথিপত্রের সীমাবদ্ধতা ও অন্যান্য কারণে অনেক ছোট ব্যবসা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের বাইরে রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী ও আলোচকদের বক্তব্যে উঠে আসে, শুধু ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো নয়—ইন্টারনেট অবকাঠামো, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, আর্থিক সেবা ও নিরাপত্তা কাঠামো একসঙ্গে শক্তিশালী করলেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে টেকসইভাবে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা সম্ভব।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন