- ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। হামলায় মস্কোর একটি বড় তেল শোধনাগারের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, হামলার সময় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন মস্কোর দিকে যাচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, পৃথক দুটি হামলায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ও এক প্রবীণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একটি ড্রোন ২১ তলা একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটি থেকে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হামলার প্রভাবে মস্কোর তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র সোবিয়ানিন। সেখানে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন। এর আগেও ইউক্রেনের ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ এই তেল স্থাপনাটি।
রুশ কর্মকর্তারা হামলাটিকে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছেন। মেয়র সোবিয়ানিনের ভাষ্য, নির্বাচনের শেষ দিনে ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, হামলার পরও নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করে বলেছেন, মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব’ পড়েছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগান দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তেল ও সরবরাহ অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রুশ বাহিনীও ইউক্রেনের জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।
মস্কোতে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকাতেও রাতভর রুশ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কিয়েভ অঞ্চলে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার তিন বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। আরেকটি হামলায় আহত এক কিশোরী পরে হাসপাতালে মারা যায়।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় অন্তত ৩১টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বসতবাড়ি, শিল্প ও জরুরি সেবার স্থাপনা, যানবাহন এবং একটি কৃষি প্রতিষ্ঠানের এলাকাও রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতভর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ১৩৮টি ড্রোন পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে ১০১টি ধ্বংস বা ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশের পরও দুই দেশই দূরপাল্লার হামলার মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে। রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কোতে এই বড় ধরনের ড্রোন হামলা এবং একই সময়ে ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলা চলমান সংঘাতের নতুন তীব্রতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।