- ১১ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক তেলবাজারে নেতৃত্ব দেওয়া সৌদি আরব ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশের অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি খাতে এই পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তির ভারসাম্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উচ্চ উৎপাদন এবং কৌশলগত মজুত থেকে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক তেল ও জ্বালানি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক সংকট, যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে সৌদি আরব ও রাশিয়ার রপ্তানি সক্ষমতা কমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেল ও গ্যাস উৎপাদনে বিপ্লবাত্মক প্রবৃদ্ধিই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। একসময় মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন প্রভাব সৃষ্টি করবে। তেল ও গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এখন মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ পাচ্ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশও মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়িয়েছে।
তবে এই পরিবর্তন নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে। ইউরোপের কিছু নীতিনির্ধারক মনে করছেন, একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফলে জ্বালানি সরবরাহের বহুমুখীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন মূলত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বাজারভিত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন বাড়ার এবং দাম কমলে উৎপাদন কমার প্রবণতা বাজারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারসাম্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
জ্বালানি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেলবাজারে ঐতিহ্যগত প্রভাবশালী শক্তিগুলোর ভূমিকা আরও পরিবর্তিত হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।