Thursday, March 12, 2026

সংসদ ভবনের সামনে এনসিপির মানববন্ধনে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের দাবি


ফাইল ছবিঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যক্রম চলাকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে মানববন্ধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মানববন্ধন থেকে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনসহ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন দলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছু পর মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ দুটি অবস্থানে বিভক্ত—একটি ফ্যাসিবাদের পক্ষে এবং অন্যটি ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে। সংসদে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন, তাদের উচিত রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং তার অভিশংসনের দাবি তোলা।

তিনি আরও বলেন, তারা দলীয় স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। সংসদের অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি নিজেদের এলাকায় গিয়ে জনগণের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে চান, তাহলে রাষ্ট্রের সর্বশেষ ফ্যাসিবাদী প্রতীক হিসেবে যাকে তিনি উল্লেখ করেন—সেই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে গণভোটে যে সংস্কারের দাবি উঠেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার তিনটি মূল দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের দ্রুত শপথ গ্রহণ, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।

এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মনিরা শারমিন, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকিরসহ বিভিন্ন নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহত নারী শহীদ নাইমা সুলতানার মা আইনুন নাহারসহ শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরাও মানববন্ধনে অংশ নেন।

আইনুন নাহার বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় তাঁদের সন্তানরা জীবন দিয়েছেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি দ্রুত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এসব প্ল্যাকার্ডে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের দাবিসংবলিত নানা স্লোগান লেখা ছিল।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন