Sunday, July 26, 2026

সেপ্টেম্বরেই হতে পারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিএনপিতে আলোচনায় মির্জা ফখরুলসহ কয়েকটি নাম


ফাইল ছবিঃ বঙ্গভবন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি আপাতত সময় নিয়ে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের সম্ভাব্য প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বের কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি দলীয় প্রার্থী হবেন নাকি দল-নিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকার ও দলীয় সূত্রগুলোর মতে, আগামী সংসদ অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ জুলাই জাতীয় সনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ফলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতায় পরিবর্তন এলে সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলের নেতৃত্ব দেওয়া, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের কঠিন সময়ে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ভূমিকা—এসব বিষয় তার পক্ষে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

তবে দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সরকার ও দলে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছাড়তে হবে, মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তার আসনও শূন্য হবে। এসব বিষয়ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, দলীয় রাজনীতির বাইরের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার বিকল্পও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নাম আলোচনায় এসেছে। যদিও আগে আলোচিত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সম্ভাবনা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলীয় কিংবা নির্দলীয়—যেই প্রার্থীই হোন না কেন, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা হালনাগাদ হওয়ার পর নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, আর বৈধ একমাত্র প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন দৃষ্টি রয়েছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং আগামী সংসদ অধিবেশনের দিকে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন