Wednesday, August 12, 2026

সাভারে মসজিদের মাঠে টেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার, নতুন করে আতঙ্ক


ছবিঃ প্রেশারকুকার (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

সাভারের আশুলিয়ায় প্রেশারকুকারসদৃশ সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের এক সপ্তাহ না পেরোতেই এবার সাধাপুরের একটি মসজিদের মাঠ থেকে একই ধরনের বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকারটি একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে সাভারের সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে স্থানীয়রা ড্রামটি দেখতে পান। পরে সেটির ভেতর কাপড়চোপড়, কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে টেপে মোড়ানো একটি প্রেশারকুকার দেখতে পেয়ে তারা সেটি বাইরে বের করে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বুধবার সকাল ৮টার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদের মাঠ ঘিরে ফেলে। পরে সন্দেহজনক বস্তুটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়।

ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন জানান, রাতের কোনো একসময় তিন ব্যক্তি ওই ড্রামটি মাঠে রেখে চলে গেছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বস্তুটি আসলে বিস্ফোরক বা বোমা কি না, বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়া তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় একই ধরনের সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে আগের ঘটনাটি। গত ৩১ জুলাই আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় একটি দোকানের সামনে পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে প্রেশারকুকারসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।

ওই ঘটনার তদন্তের ধারাবাহিকতায় সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি আস্তানা শনাক্ত এবং সেখান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের তথ্য জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় একজনকে আটকের কথাও জানানো হয়েছে। ফলে সাধাপুরে উদ্ধার হওয়া নতুন বস্তুটির সঙ্গে আগের ঘটনা কিংবা দক্ষিণ শ্যামপুরের আস্তানার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নতুন ঘটনাটিকে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত করাও সমীচীন নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে মসজিদের মাঠে একটি ড্রাম পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ড্রামের ভেতরে কালো টেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার দেখতে পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ঘটনার পর এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, সন্দেহজনক বস্তুটির বিষয়ে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে ড্রামটি সেখানে রাখা হয়েছিল, তা জানতে আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে।

পরপর একই ধরনের বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন বস্তুটির প্রকৃতি, এর উৎস এবং কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা। আগের ঘটনার সঙ্গে নতুন ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তদন্তে সেটিও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন