- ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে পুলিশের মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাব্বির আহমেদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার গেটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তাঁর অভিযোগ।
আহত সাব্বির আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগে ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র।
সাব্বির আহমেদের দাবি, তিনি তাঁর বিভাগের এক নারী সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য প্রথমে অপেক্ষা করতে বলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর সার্ভার সমস্যার কথা জানিয়ে জিডি করতে আরও সময় লাগবে বলে জানানো হয়।
এরপর থানার সামনে অবস্থানকালে এক পুলিশ সদস্য তাঁকে সেখানে থাকার কারণ জানতে চান। জিডি করতে এসেছেন জানালে তাঁকে থানার ভেতরে যেতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, থানার গেট পার হওয়ার পরপরই কয়েকজন পুলিশ সদস্য কোনো প্রশ্ন না করেই লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করেন।
মারধরের একপর্যায়ে সাব্বির আহমেদ আহত অবস্থায় দৌড়ে পাশের একটি ফুলের দোকানে আশ্রয় নেন। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম তাঁকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর হাত ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ডান হাতের কবজিতে আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে এক্স-রে করাতে হয়েছে।
সাব্বির আহমেদ অভিযোগ করেন, মারধরের সময় তাঁর পকেটে থাকা আইফোনটি পুলিশের লাঠির আঘাতে ভেঙে যায়। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে এবং ঋণ নিয়ে ফোনটি কিনেছিলেন, যার পুরো টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, থানায় নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি এভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে বিচার চাইবেন কোথায়? তাঁর ভাষায়, থানায় গেলে আবারও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
সাব্বির আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান–এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।