- ৩০ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থী ও পার্কের কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন দর্শনার্থীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দর্শনার্থী সালমা মোস্তারী (৪৪)। অভিযোগে তিনি পার্কের কর্মচারী চন্দন কুমার (৪০), মাসুদ রানা (৪০) ও ধনজয় ধনা (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করেছেন।
আহত দর্শনার্থীরা হলেন সালমা মোস্তারী এবং তার দুই ছেলে জারিফ (১৫) ও মাহিম (১৭)। তারা ঢাকার বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগে সালমা মোস্তারী বলেন, শনিবার দুপুরে দুই ছেলেকে নিয়ে কোর সাফারি পরিদর্শনের জন্য টিকিট নিয়ে নির্ধারিত মিনিবাসে ওঠেন তারা। বাসের আসনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা, কাগজ ও পলিথিন পড়ে থাকতে দেখে তিনি এক কর্মচারীকে বিষয়টি জানান। এ সময় ওই কর্মচারী উত্তেজিত হয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বাসে থাকা অন্য দর্শনার্থী ও তার দুই ছেলে বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। এরপর তাদের নিয়ে কোর সাফারি পরিদর্শন করানো হয়।
সালমার অভিযোগ, কোর সাফারি থেকে বের হয়ে বাস থেকে নামার সময় কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। তার দুই ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে পার্কের একটি অফিসে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাকেও গালাগাল করা হয় এবং মারধরের ঘটনায় তিনি ও তার দুই ছেলে আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনগুলো নিয়ে নেওয়া হয় এবং একটি ফোন ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি টাকা ও স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে দর্শনার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানের দাবি, কোর সাফারি পরিদর্শনের সময় দর্শনার্থীরাই প্রথমে পার্কের কর্মীদের মারধর করেন। পরে অফিসের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও মারামারি হয়।
তারেক রহমান বলেন, কর্মচারীদের মারধরের ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, সংঘর্ষে পার্কের কর্মচারীরাই তুলনামূলক বেশি মারধরের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা হলেও পরে দর্শনার্থীরা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন।
সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, তিনি পার্কেই ছিলেন এবং ঘটনার কথা জানার পর দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের মধ্যে শ্রীপুর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।