- ৩০ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাঙামাটি
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও জুরাছড়িসহ জেলার বিভিন্ন হ্রদবেষ্টিত এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে চলে গেছে রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুও।
হ্রদে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের গেট খুলে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১৬টি জলকপাট তিন ফুট করে খুলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির চাপ কমাতে ধাপে ধাপে স্পিলওয়ের গেট খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাটির এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রথম দফায় প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার পর পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক করা হয়। কিন্তু পানির উচ্চতা কমার পরিবর্তে আরও বাড়তে থাকায় রোববার সকাল থেকে প্রতিটি গেট তিন ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৬ দশমিক ০২ ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট হলেও ১০৫ ফুটের বেশি হলে সেটিকে বিপৎসীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পানি ছাড়ার পাশাপাশি কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনও চালু রয়েছে। কেন্দ্রের ইউনিটগুলো থেকে উৎপাদনের সময় আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি বের হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি সদরসহ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ঘরবাড়ি, সড়ক, স্থাপনা ও ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। বাঘাইছড়ির বেশ কিছু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
তবে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানিয়েছেন, রোববার দুপুরের পর কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, হ্রদের পানি বাড়ায় মোটেলের ঝুলন্ত সেতুটি প্রায় আধা ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়ার কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।