Friday, March 6, 2026

রয়টার্সের প্রতিবেদনে: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থান


ছবিঃ সোনা ও তেল (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট PNN 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও বৃহস্পতিবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দামে পতন ঘটেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে আগ্রহ কিছুটা ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে সূচক বাড়ার প্রভাব এদিন এশিয়ার বাজারেও পড়ে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক আগের দিনের বড় পতন কাটিয়ে শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা হয়তো কূটনৈতিক পথে সমাধানের দিকে যেতে পারে। তবে অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি ও স্বর্ণবাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে।

এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমএসসিআই (জাপান ব্যতীত) সূচক প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক এক পর্যায়ে ১০ শতাংশের বেশি পর্যন্ত উঠে আঞ্চলিক বাজারে শীর্ষ অবস্থানে চলে যায়। একই সময় জাপানের নিক্কি সূচকও প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি বাড়ে।

চীনের বাজারেও সামান্য উত্থান দেখা গেছে। দেশটির ব্লু-চিপ সিএসআই ৩০০ সূচক দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ বাড়ে। সাংহাই কম্পোজিট সূচকও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ইতিবাচক অবস্থানে থাকে।

এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ১০ শতাংশে এবং ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ হয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বন্ড বাজারের নিয়ম অনুযায়ী সুদের হার বাড়লে সাধারণত বন্ডের দাম কমে যায়।

অন্যদিকে চীন তাদের নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। সেখানে ২০২৬ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা সংযত। একই সঙ্গে শিল্পখাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাজার অনেকটাই রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনার খবরের ওপর নির্ভর করছে। ফলে যেকোনো নতুন ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তেলের দাম বাড়ছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৭ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৮৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দামও বেড়েছে।

মুদ্রাবাজারে ডলার সূচক প্রায় স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। জাপানি ইয়েনের দামও সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে বিটকয়েন ও ইথারের দামে সামান্য পতন দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দ্রুতই ফিরে আসতে পারে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন