Friday, March 6, 2026

সুদানে বারারা শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখলের দাবি সেনাবাহিনীর


ছবিঃ “ড্রোন হামলায় আহত মানুষরা সুদানের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের এল-ওবেইদ শহরে বসে আছেন, ১২ জানুয়ারি ২০২৬।” — (সংগৃহীত । আল জাজিরা । এল তাইয়েব সিদ্দিগ / রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: PNN

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানে পশ্চিমাঞ্চলের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বারারা পুনর্দখলের দাবি করেছে দেশটির সরকারপন্থী সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ)। সেনাবাহিনীর দাবি, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তারা শহরটি থেকে প্যারামিলিটারি গোষ্ঠী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)কে বিতাড়িত করেছে এবং তাদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ সুদানি সামরিক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বারারা শহরের ভেতরে আরএসএফের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমানবাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় তাদের সামরিক যান ও সেনাদের সমাবেশস্থলে আঘাত হানে এবং একাধিক যোদ্ধা নিহত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি ভারী যুদ্ধযান ধ্বংস হয়ে যায়।

সেনা সূত্রের মতে, বিমান হামলার পর উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এল-ওবেইদের উত্তর দিকের অবস্থান থেকে সেনারা আকস্মিক স্থল অভিযান চালায়। বিশেষ করে আল-ডানকোজ শহর এলাকা থেকে অগ্রসর হয়ে তারা বারারা শহরের প্রধান প্রবেশপথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

অভিযানের সময় সেনারা আরএসএফের অন্তত ৩২টি যুদ্ধযান ধ্বংস করেছে এবং আরও ১০টি যান অক্ষত অবস্থায় জব্দ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরাসরি সংঘর্ষ ও ড্রোন হামলায় বহু আরএসএফ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

২০২৫ সালের মার্চে রাজধানী খার্তুম থেকে আরএসএফকে সরিয়ে দেওয়ার পর গোষ্ঠীটি তাদের সামরিক অভিযান কর্দোফান অঞ্চল এবং উত্তর দারফুরের এল-ফাশের শহরে কেন্দ্রীভূত করে। দীর্ঘদিন ধরে দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি ছিল এল-ফাশের। তবে গত বছরের অক্টোবরে শহরটি আরএসএফের দখলে চলে যায়।

শহরটি দখলের পর আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ এবং ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সুদানের সংঘাতে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করেছে।

জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল-ফাশেরে আরএসএফের সহিংসতার ধরন গণহত্যার বৈশিষ্ট্য বহন করে।

প্রায় তিন বছর ধরে চলা সুদানের এই গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, এই সংঘাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যসংকটের মানবিক সংকট তৈরি করেছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুদানের প্রায় ২ কোটি ১২ লাখ মানুষ—যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪১ শতাংশ—তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। এছাড়া সংঘাতের কারণে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন