Friday, March 6, 2026

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ১২৩: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়


ছবিঃ “২০২৬ সালের ৬ মার্চ শুক্রবার ভোরে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে কথিত হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।” — (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মোহাম্মদ আজাকির / রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: PNN

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১২৩ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নতুন করে বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৬৮৩ জন। একই সময়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার শুরু হওয়া হামলার পর থেকে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নতুন হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালায়। এর মধ্যে স্রিফা, আইতা আল-শাব, তুলিন, আস-সাওয়ানা এবং মাজদাল সেলেম শহর উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ভোরের দিকে পূর্ব লেবাননের দৌরিস শহরেও একটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা আসে ঠিক একদিন পর, যখন ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে বসবাসকারীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এর ফলে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ দাহিয়েহ এলাকায় ব্যাপক জনপলায়ন শুরু হয়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস থাকা এই এলাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা দাহিয়েহ এলাকায় অন্তত ২৬ দফা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের সদর দপ্তর এবং ড্রোন সংরক্ষণের একটি গুদাম ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে। সংগঠনটি শুক্রবার ভোরে একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা মারুন আল-রাস ও কফর কিলা এলাকাসহ লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। এছাড়া দখলকৃত গোলান মালভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলের ইয়োআভ সামরিক ঘাঁটি এবং হাইফা বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে তারা। তবে এসব হামলায় হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা সীমান্তবর্তী নিজেদের শহরগুলো খালি করবে না। বরং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের হুমকির কারণে লেবাননে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক পরিবারকে সমুদ্রসৈকতসহ উন্মুক্ত স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দ্রুতই লেবাননে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব, খাদ্য সংকট এবং শীতের মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে লেবানন আবারও বড় ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন