Friday, March 6, 2026

তেহরানে তীব্র বিমান হামলা, যুদ্ধের সপ্তম দিনে বাড়ছে সংঘাত


ছবিঃ “মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, তেহরানে হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।” — (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ভাহিদ সালেমি / এপি)

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: PNN 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সপ্তম দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নতুন করে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলার মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসথ।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে তারা তেহরানে নতুন দফা হামলা শুরু করেছে। তাদের দাবি, এই অভিযানে ইরানের “শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো” লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে এবং এটি যুদ্ধের নতুন পর্যায়ের অংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ইরানের গভীরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে শক্তিশালী ‘পেনিট্রেটর’ বোমা নিক্ষেপ করেছে।

রাতভর তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশেও হামলার প্রভাব পড়েছে। একটি সামরিক একাডেমিও হামলার শিকার হয়েছে।

তেহরানে অবস্থানরত সাংবাদিকদের মতে, আগের দিনের তুলনায় রাজধানীতে হামলার তীব্রতা বেশি ছিল। বিশেষ করে শহরের পূর্ব ও দক্ষিণ–পূর্ব অংশে ধারাবাহিক আঘাত হানা হয়েছে। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

রাজধানীর পাশাপাশি ইরানের আরও কয়েকটি শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির জন্য পরিচিত কেরমানশাহ অঞ্চলের আশপাশে হামলার শব্দ শোনা গেছে। শিরাজ ও ইসফাহান শহরেও আঘাত হানার তথ্য পাওয়া গেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন।

শিরাজ শহরের জিবাশাহর এলাকায় এক হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন জরুরি সেবাকর্মীও রয়েছেন। এছাড়া লোরেস্তান প্রদেশের পোলদোখতার এলাকায় আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী রাতের অভিযানে ইরানের ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং তিনটি উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অকার্যকর করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের গভীরে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাগুলোতে একাধিক শক্তিশালী বোমা ফেলা হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, আগামী দিনগুলোতে হামলার মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তিনি জানান, অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে সেটি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮১ জন শিশু রয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল কি না তা তদন্ত করছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন