- ২৫ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক | ঢাকা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শিগগিরই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সম্ভাব্য এই পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও বিভিন্ন মহলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এসব নামের কোনোটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় রাষ্ট্রপতির পদটি এবার বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সাংবিধানিক নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির কোনো ব্যক্তিকেও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে যেসব নাম বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এবং বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনকালীন ভারসাম্য রক্ষার সক্ষমতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময় তিনি দায়িত্বে থাকা বা না থাকার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা সামনে আসায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।