Tuesday, September 15, 2026

রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: অর্থায়ন ও নেপথ্য পরিকল্পনা নিয়ে তদন্ত


প্রতীকী ছবিঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে নেপথ্যের অর্থায়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আত্মগোপনে থাকা ও দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এসব কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে অর্থ জোগান দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে আকস্মিক মিছিল আয়োজনের জন্য কর্মীদের নগদ অর্থ ও যাতায়াত খরচ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসব কর্মকাণ্ডের অর্থের উৎস ও সমন্বয়কারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা সূত্রে অর্থায়নের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় মিছিল থেকে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ও পরবর্তী সময়ে চালানো অভিযানে আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডিএমপি জানিয়েছে, শুধু ১৩ সেপ্টেম্বরের বিশেষ অভিযানে আরও ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।

গুলশানের ঘটনার পর মিছিলটি কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে আয়োজন করা হলো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে সারাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নামে ১৪৩টি ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪৩টি মামলা এবং ২০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম নয় দিনে ছাত্রলীগের ৩১টি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে এবং ৫০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে আওয়ামী লীগের নামে ২২টি ঝটিকা মিছিল এবং একটি গোপন বৈঠকসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অভিযোগে মোট ৩৬টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গোয়েন্দাদের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কর্মীদের দ্রুত জড়ো করে অল্প সময়ের মধ্যে মিছিল করে সরে যাওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে অর্থের লেনদেনের ধরনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হুন্ডি, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঝটিকা মিছিলের সময় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে অর্থায়ন ও পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজনের নামও পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেনও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএমপির সদর দপ্তরের উপকমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, গুলশানের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় কমিটির সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে জড়িত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পাশাপাশি এর পেছনে থাকা অর্থের উৎস, সমন্বয়কারী ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। এসব তথ্য যাচাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন