- ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার ভাষ্য, একজন শ্রমজীবী মানুষের সারাদিনের পরিশ্রমের উপার্জন থেকে চাঁদার নামে একটি বড় অংশ নিয়ে নেওয়া হলে এর প্রভাব শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনে নয়, পুরো পরিবারের ওপর পড়ে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একজন শ্রমজীবী মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে ৫০০ টাকা আয় করেন। এই অর্থ দিয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের দুধ, পড়াশোনার সামগ্রী কিংবা অসুস্থ স্বজনের ওষুধ কেনার ব্যবস্থা করতে হয়। সেই আয়ের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা হিসেবে চলে গেলে পরিবারের কোনো না কোনো প্রয়োজন অপূর্ণ থেকে যায়।
চাঁদাবাজির বিস্তৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দোকান বা ব্যবসা পরিচালনা থেকে শুরু করে যানবাহন চালানো কিংবা বাড়ি নির্মাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই মানুষকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, চাঁদাবাজির অর্থ অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অপমান ও অসহায়ত্ব তৈরি হয়, সেটিও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, চাঁদাবাজির অর্থ বিভিন্ন স্তরে ভাগ হয়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছায়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, চাঁদাবাজি কেবল মানুষের কাছ থেকে অর্থ কেড়ে নেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন শ্রমজীবী মানুষের পরিশ্রম, তার পরিবারের প্রয়োজন এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ।
তিনি ‘নব্য চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলাকায় এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন।
তার মতে, একজন বাবা বা পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যেন দিনের পর দিন পরিশ্রম করে অর্জিত অর্থ নিরাপদে পরিবারের জন্য নিয়ে ফিরতে পারেন এমন পরিবেশ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সবার অন্যতম দায়িত্ব।