- ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই আসিফ মাহমুদ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ যখন জামায়াতবিরোধী অবস্থানে ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এমনকি ওই সময় দুর্নীতির অভিযোগের কারণে জামায়াতের আমির ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন দেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য, বর্তমানে আসিফ মাহমুদ জামায়াত জোটের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর অবস্থানও যেন বদলে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে কারও অপরাধী বা নিরপরাধ হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, জামায়াতের সঙ্গে থাকা বা দলটিকে সমর্থন করার কারণে কারও সব অভিযোগ মুছে যায় এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, আসিফ মাহমুদও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা পেতেই জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে এনসিপি যদি জামায়াতের সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে আসে, তাহলে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আসিফ মাহমুদের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়েও মন্তব্য করেন।
তার দাবি, জামায়াতের পক্ষ থেকে দক্ষিণে তাকে সমর্থন না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি উত্তর সিটিতে চলে গেছেন। পরবর্তী সময়ে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে তিনি সরে দাঁড়াতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
তবে রাশেদ খানের এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বা এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।