- ১৬ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বাংলাদেশে পুশ ইন, সীমান্ত হত্যা ও সীমান্তে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতকে সীমান্তে আগ্রাসী আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ‘বড়াইবাড়ি যুদ্ধের’ ইতিহাস স্মরণ করার কথা বলেন।
সোমবার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট মোড় ও পুরানা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে সীমান্তে হত্যা, পুশ ইন এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টির ঘটনাকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণ ও বিজিবি সদস্যরা এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষ দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদও সীমান্ত ইস্যুতে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় আরও দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সীমান্তে পুশ ইনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সংসদ ও সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, লেবার পার্টি, জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা। বক্তারা সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এর স্থায়ী সমাধানে সরকারকে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।