Sunday, October 11, 2026

জুলাইয়ের ইতিহাসে কোনো দলের একক বয়ান নয়, পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরতে হবে: নাহিদ ইসলাম


ছবিঃ নাহিদ ইসলাম (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্দোলনের প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে শুধু একটি প্রদর্শনীর স্থান হিসেবে নয়, জাতীয় ইতিহাস চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখানে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাসের প্রতিফলন থাকা উচিত নয়।

জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনীতে আন্দোলনের কিছু ব্যক্তি ও ঘটনা তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিস্তৃত পরিসর এবং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ আরও বেশি তুলে ধরা প্রয়োজন। সময়ের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের ঘটনাগুলো সাজানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অতীতে দলীয়করণের অভিযোগ ছিল এবং সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। জুলাইয়ের ক্ষেত্রেও যেন একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তার মতে, এমনভাবে ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ এটিকে নিজেদের ইতিহাস হিসেবে ধারণ করতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ইতিহাসের সত্যতা পরিবর্তন করা যাবে না।

জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি জানান, বিপুল দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে বর্তমানে জাদুঘরে পর্যাপ্ত জনবল নেই। যেখানে প্রায় ২০০ জন কর্মী প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করছেন। ফলে স্বল্প জনবল দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দর্শনার্থীদের কাছে জাদুঘরের নিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

জাদুঘর পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে ইতিহাস, গবেষণা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। তার মতে, জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার।

জুলাইয়ের সময় শিক্ষার্থী, গবেষক, রাজনৈতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাদুঘর প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই যারা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, বর্তমানে জাদুঘরের প্রদর্শনীতে আবু সাঈদের ছবি না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাদুঘরে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শহীদদের পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া স্মৃতিচিহ্ন আরও বিস্তৃতভাবে প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমানে কিছু স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শিত হলেও আরও অনেক নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো পরিকল্পিত ও শৈল্পিকভাবে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে।

গণভবনের প্রায় ১৭ একর জায়গাকে কাজে লাগিয়ে জাদুঘরের পরিসর বাড়ানোরও পরামর্শ দেন নাহিদ ইসলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনা, স্মৃতি ও নিদর্শন সেখানে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এ সময় তিনি জুলাইয়ের ইতিহাস থেকে সীমান্ত হত্যা, ভারতবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঘটনা বাদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, এসব ঘটনাও ইতিহাসের অংশ হিসেবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা প্রয়োজন।

বিগত ১৬ বছরে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের ঘটনাও জাদুঘরে স্থান পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, কোনো ঘটনা বাদ দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন