- ০৮ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নারায়ণগঞ্জ
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য তারা জীবন দেননি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘শহীদ স্মরণ সমাবেশে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই আন্দোলনের মালিকানা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর এককভাবে দাবি করার সুযোগ নেই। যারা গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য এটিকে নিজেদের ‘পেটেন্ট’ করতে চাইছেন, তারা এর মূল চেতনা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সমাবেশে দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সাইফুল হক বলেন, গত দুই বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমার বদলে আরও বেড়েছে। চাকরিচ্যুতি ও কর্মহীনতার চাপও বাড়ছে। সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও শ্রমিকদের জন্য এখনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিদেশ-নির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ভারতের বাংলাদেশ নীতির সমালোচনা করে সাইফুল হক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের নীতির বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পেলেও দেশটির নীতিনির্ধারকেরা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেয়নি। তার দাবি, একদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা হলেও অন্যদিকে বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে রাখতে ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। নারীর অধিকার ও মর্যাদার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিষদের আরেক সদস্য আকবর খান বলেন, বিএনপিকে অবশ্যই গণঅভ্যুত্থানের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে হবে।
প্রধান বক্তা আবু হাসান টিপু বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের বড় ধরনের অংশগ্রহণ ছিল এবং তাদের অনেকে শহীদ হয়েছেন। অথচ বর্তমানে তারাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ত্যাগ স্বীকার করলেও গত দুই বছরে সেই আন্দোলনের সুফল অল্প কিছু মানুষ ভোগ করেছে। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দল আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটির সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ শিমুল, মীর রেজাউল আলম, নৌপরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ সব শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।