- ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেশি। দেশে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে এখন গ্রাহককে দিতে হচ্ছে ২ হাজার ৬০ টাকা। একই পরিমাণ গ্যাসের দাম ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে এর চেয়ে কম।
সোমবার (২ নভেম্বর) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তুলনায় পাকিস্তানে সমপরিমাণ গ্যাসের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা, নেপালে ১ হাজার ৪২৬ টাকা। ভারতের কলকাতায় ১২ কেজি এলপিজির দাম প্রায় ১ হাজার ৭২ টাকা।
তবে এসব দেশে সিলিন্ডারের প্রচলিত আকার এক নয়। ভারত ও নেপালে সাধারণত ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তানে ১১ দশমিক ৮ কেজি, শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ১২ কেজি এবং বাংলাদেশে ১২ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদা বেশি। তাই তুলনার জন্য দামগুলো ১২ কেজি গ্যাসের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে।
ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েলের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ রুপি, আর কলকাতায় ৯৬৮ রুপি। বিনিময় হার ধরে কলকাতায় ১২ কেজি এলপিজির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭২ টাকা। দেশটিতে স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের জন্য সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি ভর্তুকির ব্যবস্থাও রয়েছে। একজন গ্রাহক বছরে সর্বোচ্চ চারবার এই সুবিধা নিতে পারেন; এর জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রয়োজন।
নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ নেপালি রুপি। সেই হিসাবে ১২ কেজি গ্যাসের মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪২৬ টাকা। শ্রীলঙ্কার সরকারি প্রতিষ্ঠান লিট্রো গ্যাসের নির্ধারিত হিসাবে সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৩৬৫ রুপি; ১২ কেজির দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা। পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১১ দশমিক ৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৪৭০ রুপি ১২ কেজির হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা।
তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সব সময় সরকারি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না। চাহিদা বেড়ে গেলে বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়।
বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার পেছনে আমদানি ও পরিবহন ব্যয়কে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নভেম্বরের মূল্য নির্ধারণে প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় ও আমদানিকারকের প্রিমিয়াম বাবদ ২৫০ ডলার ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে একই ব্যয়ের তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।