Wednesday, November 4, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো জয়ী ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব


ছবিঃ ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও জয় পেয়েছেন দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের দুই মুসলিম নারী সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় টানা পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হয়ে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই দুই প্রভাবশালী রাজনীতিক।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর। অন্যদিকে মিশিগান থেকে পঞ্চম মেয়াদে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব। দুজনই দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত চলার মধ্যেই মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেন ইলহান ওমর। মিনেসোটার আসনটিতে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক অঙ্গরাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা জন নাগেলকে পরাজিত করেন।

২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ওমর। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন তিনি। এবার পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখলেন এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী।

তবে নির্বাচনী সাফল্যের পাশাপাশি অভিবাসনসংক্রান্ত তদন্তও তার জন্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাসায় তল্লাশি চালান যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা। তদন্তের অংশ হিসেবে তার মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কথাও ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা ওমর ও তার বাবার অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে কোনো তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। সম্ভাব্য অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৬ সালে বারাক ওবামার প্রশাসনের শেষ সময়ে এফবিআই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করেছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। পরে ২০২১ সালে জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় তদন্তটি বন্ধ করা হয়েছিল বলে ফক্স নিউজের একটি সূত্রের দাবি।

তবে ওমর তার বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হয়নি। তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, মিশিগান থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস ডি হুপারকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেসে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করেছেন রাশিদা তালিব। আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে তার।

ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব উভয়েই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারা। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন এই দুই আইনপ্রণেতা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে। ভোট গণনার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ২৩১টি এবং রিপাবলিকানরা ১৩৯টি আসনে জয় পেয়েছেন। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন