- ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটি সিনেটের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ আসনের সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫৩টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও তিনটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮ আসন পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি। তবে কয়েকটি আসনের ফল তখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, মেইন ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাসে জেমস তালারিকো ১৯৯৪ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনে জয়ের নজির গড়েছেন। কানসাসেও দীর্ঘ বিরতির পর সিনেট আসন ফিরে পেয়েছে দলটি।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয় কংগ্রেসে দলটির আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির ক্ষমতা বাড়াবে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন আটকে দিতে পারে এবং কমিটির মাধ্যমে তদন্ত চালাতে পারে। তবে কোনো বিল আইনে পরিণত করতে দুই কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। ট্রাম্প ভেটো দিলে তা অতিক্রম করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে।
নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিল। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধা রয়েছে। নতুন কংগ্রেসের মেয়াদ শুরু হবে ৩ জানুয়ারি। তার আগে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং সামরিক ব্যয়ের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করতে পারে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে তদন্তের জন্য তলব করা নথি বা সাক্ষ্য নিয়ে প্রশাসন আদালতের দ্বারস্থ হলে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। অভিযোগের প্রমাণ মিললেও তা থেকে আইনি ব্যবস্থা বা অভিশংসন হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি পুনর্বহাল, মেডিকেইডে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত পাল্টানো এবং শুল্কনীতি নিয়ে পদক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে। পাশাপাশি সিনেট কমিটির মাধ্যমে খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও তদন্ত চালানোর সুযোগ পাবে দলটি। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফল নির্ভর করবে কংগ্রেসে সমর্থন এবং প্রেসিডেন্টের অবস্থানের ওপর।