- ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ। মিশিগানের এই আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন।
মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান ৪২ বছর বয়সী এল-সাইয়েদ আগে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব কমানো এবং বিদেশে যুদ্ধের জন্য মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের মতো প্রগতিশীল প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে প্রচার চালান। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও সমালোচনা করেন তিনি।
বুধবার বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, যেসব অভিভাবক সন্তানদের বোঝাতে হিমশিম খেয়েছেন কেন প্রেসিডেন্ট কারও নাম বা প্রার্থনার ধরন নিয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করেন, তাঁদের সন্তানদের জানাতে হবে যে অন্যায়কারীরা হেরেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, রাজনীতি থেকে বড় অর্থের প্রভাব সরানো এবং ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ চালুর প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এল-সাইয়েদের ভাষ্য, কর দেওয়ার পর সেই অর্থ অন্য দেশের মানুষের ওপর বোমা ফেলতে ব্যয় না হয়ে দেশের মানুষের ও তাঁদের সন্তানদের কল্যাণে কাজে লাগা উচিত।
প্রচারের পুরো সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন এল-সাইয়েদ। তাঁর অভিযোগ, দুজনই প্রচারে তাঁকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। বিজয় ভাষণে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ভ্যান্স তাঁকে শপথ পড়ানোর পর প্রেসিডেন্ট চাইলে তাঁকে শুধু ‘সিনেটর’ বলে ডাকতে পারেন।
মিশিগানে ১৯৯৪ সালের পর কোনো রিপাবলিকান সিনেট নির্বাচনে জয় পাননি। তবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের অবসরের ঘোষণায় আসনটি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে ওঠে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ের অংশ হয়ে ওঠা এ নির্বাচনে ৪ আগস্টের প্রাথমিক নির্বাচনের পর বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি।
ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স নির্বাচনের শেষ দিকে রিপাবলিকান রজার্সকে সমর্থন জানান। এল-সাইয়েদের প্রচারকে ‘ঘৃণার’ রাজনীতি বলে সমালোচনাও করেন তিনি।
তবে এল-সাইয়েদের জয় সিনেটে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে না। মিশিগানের দুই সিনেট আসনই আগে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান অবশ্য ডেমোক্র্যাট দলের প্রচলিত ধারার চেয়ে বেশি বামঘেঁষা বলে বিবেচিত হচ্ছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ধনকুবেরদের প্রভাবের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং ইসরায়েল, সমাজতন্ত্র ও রাজনীতিতে অর্থের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত দলীয় অবস্থান থেকে সরে আসার বার্তা নির্বাচনী প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।