Tuesday, November 3, 2026

ইসরায়েলকে বার্ষিক মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের


ছবিঃযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দিকে আঙুল নির্দেশ করছেন; এ সময় তাঁরা করমর্দন করছেন। স্থান: পাম বিচ, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র। তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /জোনাথন আর্নস্ট/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন অর্থসহায়তা চলতি বছরের শেষেই বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে সহায়তা বন্ধের পর ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন পাশে থাকবে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র এত দিন ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলার করে দিয়ে আসছিল। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ দেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বছরের শেষের পর ইসরায়েলকে আর নিয়মিত অর্থ দেওয়া হবে না। তবে দেশটির প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। ফলে তাঁর ঘোষণায় সামরিক সহায়তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা নাকি অন্য কোনো ধরনের সমর্থন বন্ধের কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এবং দেশটির সমর্থকদের পক্ষ থেকে মার্কিন রাজনৈতিক প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থায়নের বিষয়টি চলতি বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কের বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ঘিরে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তেল আবিবের প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থনে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল—ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়ের কাছ থেকেই শক্তিশালী সমর্থন পেয়ে এসেছে। তবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় মার্কিন রাজনীতিকদের একটি অংশ এখন প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সমালোচনা করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা বন্ধের একটি প্রস্তাব দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে প্রত্যাখ্যাত হয়। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা টমাস ম্যাসি পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যয়সংক্রান্ত একটি বিলের সংশোধনী হিসেবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। ভোটাভুটিতে ৩১৪ জন সদস্য প্রস্তাবটির বিপক্ষে এবং ১০৪ জন পক্ষে ভোট দেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রস্তাবটির পক্ষে ডেমোক্র্যাট দলের প্রায় অর্ধেক সদস্য সমর্থন জানিয়েছিলেন। এতে ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সামরিক সহযোগিতার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নিয়মিত অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বিকল্প সহায়তা অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

এদিকে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের প্রতি জনমত ও রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন