- ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে আলজাজিরার সংবাদদাতা মুনতাসের নাসারসহ অন্তত ২০ ফিলিস্তিনিকে আটক করার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার ভোরে হেবরন শহরের কাছে দুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। সেনারা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
নাসারকে ভোরে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ সময় তিনি বাড়ি থেকেই সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করছিলেন। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাঁকে একটি সামরিক যানবাহনে তুলে নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
আলজাজিরার হেবরন প্রতিনিধি মোহাম্মদ আতরাশ জানান, দুরা এলাকায় অভিযানের সময় অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে সাবেক বন্দি এবং ফাতাহ আন্দোলনের একজন কর্মকর্তাও ছিলেন। অভিযান শেষে সেনারা সরে যাওয়ার সময় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাসারের স্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, সেনাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির দরজার দিকে এগিয়ে যান। তবে আবাসিক ভবনের দিকে সেনাদের অগ্রসর হতে দেখে পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। পরে সেনারা তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁর স্ত্রীর ওপরও নির্যাতন চালায় এবং নাসারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করে।
স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে নাসারকে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হেবরনের দক্ষিণে ফাওয়ার শরণার্থীশিবিরের কাছের একটি সামরিক ক্যাম্পে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির পর নাসারের সঙ্গে কথা বলে আলজাজিরার প্রতিনিধি আতরাশ জানান, আটক ব্যক্তিদের হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো হয়েছিল এবং চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। ক্যাম্পে নেওয়ার পথে তাঁদের মারধর করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরও নির্যাতনের শিকার হন তাঁরা। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় কষ্টকর ও ক্লান্তিকর অবস্থানে থাকতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন নাসার।
আতরাশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের কর্মকর্তারা ক্যাম্পে এসে আটক ব্যক্তিদের হুমকি দেন।
আলজাজিরার এই সংবাদদাতা আরও জানান, বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৪০ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আটক রয়েছেন। তাঁদের অর্ধেকের মতো কোনো অভিযোগ ছাড়াই প্রশাসনিক আটকাদেশের আওতায় বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর চাপ ও হয়রানির মধ্যেই সর্বশেষ এ আটকের ঘটনা ঘটল। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্টে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ৮৪টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে সাংবাদিকদের আটক এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনী হেবরনে আল-গাদ টেলিভিশনের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। ২০২৪ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় আলজাজিরার কার্যালয়েও অভিযান চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরও কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে। তুবাসের তাম্মুন শহর ও ফারাআ শরণার্থীশিবির এবং কালকিলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়। এ ছাড়া নাবলুস শহরের পূর্বাঞ্চল ও বালাতা শরণার্থীশিবিরে বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সেনারা।
সাংবাদিকদের আটক, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে অভিযান এবং পশ্চিম তীরজুড়ে ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।