- ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান আবারও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে তিন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকেরা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে পিয়ংইয়ং বহুবারই পরমাণু অস্ত্র ছাড়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবরণ অনুযায়ী, বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতি তাঁদের ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ পুনরায় নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। এসব প্রস্তাবের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থ জোগাতে সহায়তা বন্ধের বিষয়ও রয়েছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি অংশ নেন।
তিন দেশের এই অবস্থান এমন সময়ে এল, যখন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে একাধিক ঐতিহাসিক বৈঠক করেছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়েও কিমকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প এবং আবারও তাঁর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত বছর উত্তর কোরিয়াকে কার্যত পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকার করে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কিমের সঙ্গে তাঁর আবার যোগাযোগ হতে পারে এমন জল্পনাও চলছে।
বিশ্লেষক ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, সম্প্রতি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং সফরের সময় কিম সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান বেইজিংকে জানিয়ে থাকতে পারেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং যিনি শর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি অবিলম্বে পুরোপুরি বন্ধের বদলে আগে স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা করা। এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এমন উদ্যোগে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে কার্যত মেনে নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে অস্ত্রভান্ডার ছাড়াই পিয়ংইয়ং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা পেতে পারে।
দীর্ঘদিনের জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া ও চীনের সমর্থনপুষ্ট উত্তর কোরিয়া আইনেই নিজেকে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশটির সরকার তাদের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারকে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় বলে ঘোষণা করেছে।
শনিবার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণকারী কয়েকটি দেশের যৌথ বিবৃতিরও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর ‘চেনা নিষেধাজ্ঞার কৌশল’ তাদের পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের অবস্থান বদলাতে পারবে না।