Saturday, October 31, 2026

সুদানের আরএসএফ ছাড়ার ঘোষণা জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সিদ্দিক আন্দের


ছবিঃ সুদান গোষ্ঠীর নেতৃত্বে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে দলত্যাগ করলেন আরএসএফ-এর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সিদ্দিক আন্দের। আল জাজিরার হাতে পাওয়া একান্ত ভিডিওতে তিনি এ ঘোষণা দেন। শুক্রবার প্রকাশিত ওই ভিডিওতে আন্দের অভিযোগ করেন, আরএসএফের অর্থ, অস্ত্র, সেনাদের চলাচল ও পদোন্নতি সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করছেন বাহিনীর নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালোর, যিনি ‘হেমেদতি’ নামে পরিচিত, তাঁর স্বজনেরা।

আন্দের বলেন, তাঁরা যে প্রকল্পে কাজ করছিলেন, তা যে মূলত একটি পরিবারকেন্দ্রিক উদ্যোগ এ বিষয়ে তাঁদের আর কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর ভাষ্য, অর্থ ও অস্ত্র থেকে শুরু করে যোদ্ধাদের চলাচল এবং পদমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত হেমেদতির আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বললে বা সত্য প্রকাশ করলে বহিষ্কার, কারাবাস কিংবা গোপনে হত্যার মুখে পড়তে হয়। হেমেদতির ভাই আবদুল রহিম হামদান দাগালো আরএসএফের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চলতি বছর আরএসএফ থেকে একাধিক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের সরে দাঁড়ানোর খবর এসেছে। গত ৮ অক্টোবর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আজরাক আল-ফানজারি ৩০০ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য এবং ৩০টি সামরিক যানসহ বাহিনী ছাড়ার ঘোষণা দেন। যুদ্ধের কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি অন্য যোদ্ধাদেরও আরএসএফ ত্যাগের আহ্বান জানান।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর আল-তাইয়েব আল-ওয়াহিদু ৫০ যোদ্ধাকে নিয়ে ওমদুরমানে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীতে (এসএএফ) যোগ দেন বলে জানিয়েছে ‘দ্য সুদান ট্রিবিউন’। আরএসএফের অভ্যন্তরীণ নির্যাতনের অভিযোগকে বাহিনী ছাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

গত মে মাসে ব্রিগেডিয়ার আলি রিজকুল্লাহ, যিনি ‘সাভানা’ নামে পরিচিত, আরএসএফ ত্যাগের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া, এপ্রিলে মেজর জেনারেল আল-নূর আহমেদ আদম, ‘আল-কুব্বা’ নামে পরিচিত, এসএএফে যোগ দেন। সুদানের নেতা ও সামরিক প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান তাঁকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানান। সামরিক পদে নিয়োগ নিয়ে আরএসএফের নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে আল-কুব্বা বাহিনী ছেড়েছিলেন বলে জানিয়েছে ‘দ্য সুদান ট্রিবিউন’।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। আধাসামরিক বাহিনীকে নিয়মিত সেনাবাহিনীতে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়েও দুই পক্ষের মতবিরোধ ছিল। যুদ্ধের জেরে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটির কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সংঘাতে দুই পক্ষের ড্রোন হামলার ব্যবহার বাড়ছে। গত ২৬ অক্টোবর আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে একটি বাজার ও আবাসিক এলাকায় হামলা হয়। সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ এতে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর দিলেও কয়েকটি চিকিৎসা সংস্থা তুলনামূলক কম প্রাণহানির হিসাব জানিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সুদানের যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে ড্রোন হামলা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন