Saturday, October 31, 2026

হ্যালোউইন ঘিরে বিক্ষোভের আশঙ্কা, জার্মানি-ফ্রান্সে বাড়তি নিরাপত্তা


ছবিঃ ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর জার্মানির বার্লিনে একটি পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে কর্মীরা একটি বিলাসবহুল বুটিকের জানালার ওপর কাঠের তক্তা বসাচ্ছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /ইব্রাহিম নুরুজি/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

হ্যালোউইন উৎসবের সঙ্গে মিলে যাওয়া সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করছে জার্মানি ও ফ্রান্স। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এবারও বড় সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে।

জার্মানিতে শনিবার প্রায় ৩০টি শহরে বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলোনের মতো শহরেও কর্মসূচি রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে অতিরিক্ত কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় কিছু অভিজাত গয়নার দোকান ও পোশাকের বিপণিও জানালা ঢেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে।

জার্মানির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘জেনজি রেগেল্ট!’ নামের একটি গোষ্ঠী। নামটির অর্থ, ‘জেন জি সামলে নেবে’। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, স্কুলগুলোর অবস্থা খারাপ হচ্ছে এবং সরকার ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনা না করেই রাজনীতিকেরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেও তাদের ক্ষোভ রয়েছে।

ফ্রান্সেও টানা তিন সপ্তাহান্তের বিক্ষোভের পর নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জানালা ঢেকে রাখতে দেখা যায়। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্যারিসে ৪০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে মুখ ঢাকার মাস্ক ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সপ্তাহান্তে বিশৃঙ্খলার ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন। দুই সপ্তাহ আগে জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা বড় ধরনের লুটপাট ও দাঙ্গায় রূপ নেয়। এরপর সহিংসতা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিলেও গত সপ্তাহান্তেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে; কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটে।

ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলাঁ দি ক্রেসঁজো বলেছেন, ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ইন্টারকে তিনি বলেন, “দোকানিরা শনিবারটা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।” হ্যালোউইনে অনেকে মুখোশ পরে বের হবেন এ বিষয়টি পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন