- ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং নিচু অঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত। এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘আর্নব’ অন্ধ্রপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছ দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এটি উপকূল অতিক্রম করে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার দিনজুড়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি দক্ষিণের তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও ওডিশাতেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে ঝড়টির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ঝড়ে বেশ কিছু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে।
তবে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও বিস্তৃত বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় বিপুলসংখ্যক গাছ উপড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বিদ্যুতের খুঁটি এবং মাছ ধরার নৌকা। ঝড়ের আঘাতে মাঠের ফসলও নষ্ট হয়েছে। অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ সোমবার থেকেই শুরু করে প্রশাসন। অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রখর জৈন।
প্রকাশম জেলার কোঠাপাটনম এলাকার জেলে কৃষ্ণাম্মা পিটিআইকে বলেন, গত ১৪ বছরে এমন বিপজ্জনক ঘূর্ণিঝড় তাঁরা দেখেননি। ঝড় আঘাত হানার আগেই তাঁর গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজ্যকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের দুর্যোগ মোকাবিলা দল ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি এমন এক সময়ে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানল, যখন অঞ্চলটি মাত্র কয়েক দিন আগে ‘আর্নব’ নামের আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। আগের ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী ওডিশাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও মৎস্য খাত নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।