- ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইসলামি বক্তা ও ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে নয়াদিল্লিকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটির সরকার জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্তে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০১০ সালের ভারত-মালয়েশিয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদনও পায়নি মালয়েশিয়া।
সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। ভারতের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক আবেদন এবং দেশটির দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না, সে বিষয়েও তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ভারত প্রথমবার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। পরে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।
এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন।
পার্টি ইসলাম সে-মালয়েশিয়ার (পাস) মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান জানতে চান, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ বিষয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং কোনো সমঝোতা হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে ভারতের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইনের শর্ত পূরণ করে কি না, তা প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি।
অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জাকির নায়েককে ভারতে ফিরিয়ে নিতে চায় ভারত সরকার। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রত্যর্পণের বিষয়টি মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইন ও দুই দেশের মধ্যকার চুক্তির আলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে মালয়েশিয়ার অবস্থান আবারও পরিষ্কার হয়েছে। দেশটির সরকার জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি এবং এ মুহূর্তে তাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আসেনি।