Tuesday, November 3, 2026

প্রেমের নতুন সমীকরণে আলোচনায় ‘নোবডি ওয়ান্টস দিস’


ছবিঃ ‘নোবডি ওয়ান্টস দিস’–এর তৃতীয় মৌসুমের দৃশ্য (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

প্রেমের গল্পে ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য, পারিবারিক টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন নতুন কিছু নয়। তবে পরিচিত এই বিষয়গুলোকে হাস্যরস ও বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দর্শকের সামনে তুলে ধরেছে নেটফ্লিক্সের রোমান্টিক কমেডি সিরিজ ‘নোবডি ওয়ান্টস দিস’। ক্রিস্টেন বেল ও অ্যাডাম ব্রডি অভিনীত সিরিজটির তৃতীয় মৌসুম মুক্তির পর আবারও আলোচনায় এসেছে ভিন্ন বিশ্বাসের দুই মানুষের প্রেমের গল্প।

২০২৪ সালে প্রথম মৌসুমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সিরিজটির কেন্দ্রে রয়েছেন জোয়ান ও নোয়াহ। জোয়ান একজন যৌনতা বিষয়ক পডকাস্টার, যিনি ধর্মীয় বিশ্বাসে অনাগ্রহী। অন্যদিকে নোয়াহ একজন ইহুদি ধর্মযাজক। তাঁদের সম্পর্কের শুরু থেকেই উঠে এসেছে ধর্মীয় পরিচয়, পারিবারিক প্রত্যাশা ও জীবনযাপনের পার্থক্য নিয়ে নানা প্রশ্ন।

তৃতীয় মৌসুমে এসে সেই সম্পর্কের গল্প নতুন মোড় নিয়েছে। এবার শুধু প্রেমে পড়া কিংবা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্পর্কের বাস্তবতা সামলে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জই হয়ে উঠেছে গল্পের প্রধান আকর্ষণ।

আগের দুই মৌসুমে জোয়ান ও নোয়াহর সম্পর্কের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, তাঁদের ভিন্ন বিশ্বাস ও পারিবারিক বাস্তবতা কি একসঙ্গে থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? দ্বিতীয় মৌসুমের শেষ দিকে জোয়ান ইহুদি ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে নোয়াহর উপলব্ধি ছিল, জোয়ানকে তিনি ভালোবাসেন তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণে নয়, বরং মানুষ হিসেবে।

নতুন মৌসুমে দুজন এক ছাদের নিচে বসবাস শুরু করেন। একসঙ্গে জীবন কাটানোর আনন্দের পাশাপাশি সামনে আসে দৈনন্দিন অভ্যাসের সংঘাত, ব্যক্তিগত পরিসরের প্রয়োজন এবং পরিবারের হস্তক্ষেপ। ফলে তাঁদের সম্পর্কের পরিচিত রোমান্টিক আবহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বাস্তব কিছু সমস্যা।

তৃতীয় মৌসুমটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের সমালোচক জ্যাক সিল মৌসুমটিকে পাঁচের মধ্যে চার নম্বর দিয়েছেন। তাঁর পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, সম্পর্কের স্থিতিশীলতা তৈরি হলেও সিরিজটি দর্শককে নতুন করে প্রেমে পড়ার আনন্দ দিতে পেরেছে।

টাইম সাময়িকীর জুডি বারম্যানও জোয়ান ও নোয়াহর সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নতুন মৌসুম দর্শককে এই জুটির সুখী পরিণতির সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে।

তবে সমালোচকদের সবাই সমানভাবে সন্তুষ্ট নন। দ্য হলিউড রিপোর্টারের অ্যাঞ্জি হ্যানের মতে, সিরিজটি আগের তুলনায় মিষ্টি ও ভারসাম্যপূর্ণ হলেও কিছু পুরোনো দুর্বলতা রয়ে গেছে। অন্যদিকে রজারএবার্ট ডটকমের ক্রিস্টিনা এসকোবারের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, তৃতীয় মৌসুমে জোয়ান ও নোয়াহর সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

রিভিউ সংগ্রহকারী ওয়েবসাইট রটেন টম্যাটোজে সমালোচকদের ২০টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে মৌসুমটির স্কোর ৯০ শতাংশ। তবে দর্শকদের স্কোর ৬৯ শতাংশ, যা সমালোচকদের মূল্যায়নের তুলনায় কম।

সিরিজটির অন্যতম বড় শক্তি দুই প্রধান অভিনয়শিল্পীর পর্দার রসায়ন। জোয়ান চরিত্রে ক্রিস্টেন বেল আত্মবিশ্বাসী, স্পষ্টবাদী ও আবেগপ্রবণ এক নারীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রেমের কারণে নিজের জীবন ও সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখা জোয়ানের পরিবর্তনও তাঁর অভিনয়ে স্পষ্ট।

অন্যদিকে অ্যাডাম ব্রডির নোয়াহ চরিত্রে রয়েছে সংযত আচরণ, দায়িত্ববোধ ও সহজাত হাস্যরস। ধর্মযাজক, পরিবারের সদস্য ও প্রেমিক এই তিন পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা চরিত্রটিকে আরও বাস্তব করে তুলেছে।

দুজনের কথোপকথন, খুনসুটি, মান-অভিমান ও আবেগঘন মুহূর্তগুলো সিরিজটির রোমান্টিক আবেদন বাড়িয়েছে। তাঁদের অভিনয়ের এই স্বাভাবিক রসায়নই দর্শককে সম্পর্কটির সঙ্গে যুক্ত রাখছে।

তৃতীয় মৌসুমে জোয়ানের বোন মর্গান ও নোয়াহর ভাই সাশার সম্পর্কও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের মধ্যে নতুন অনুভূতির ইঙ্গিত, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং সম্পর্কের অনিশ্চয়তা তাঁদের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মর্গান চরিত্রে জাস্টিন লুপের অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আত্মবিশ্বাস, ঈর্ষা, হাস্যরস ও নিজের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তার মিশেলে চরিত্রটি আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কর্মজীবনের নতুন চ্যালেঞ্জও তাঁর গল্পের অংশ হয়েছে।

সাশা ও এস্থারের সম্পর্কের পরিবর্তনও নতুন মৌসুমে জায়গা পেয়েছে। ফলে শুধু প্রধান দুই চরিত্র নয়, তাঁদের চারপাশের মানুষের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পরিবর্তনও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

নেটফ্লিক্সের দর্শকসংখ্যার হিসাবেও সিরিজটির জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে। ২২ অক্টোবর মুক্তির পর প্রথম চার দিনে তৃতীয় মৌসুমটি পেয়েছে ৬২ লাখ ভিউ। ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

তবে আগের মৌসুমের তুলনায় দর্শকসংখ্যা কমেছে। দ্বিতীয় মৌসুম মুক্তির প্রথম চার দিনে পেয়েছিল ৮৬ লাখ ভিউ। সেই হিসাবে নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী দর্শকসংখ্যা কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।

তারপরও ২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সে ফিরে আসা চিত্রনাট্যনির্ভর কমেডি সিরিজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের দর্শকসংখ্যা পেয়েছে এটি। বিশ্বের ৫৬টি দেশের সেরা ১০ সিরিজের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ১১টি দেশে শীর্ষস্থানেও ছিল সিরিজটি।

২০২৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ‘নোবডি ওয়ান্টস দিস’ নেটফ্লিক্সের বিশ্বজুড়ে সেরা ১০ সিরিজের তালিকায় মোট ১১ সপ্তাহ অবস্থান করেছে। এ সময়ে সিরিজটির মোট ভিউ ছাড়িয়েছে ১২ কোটি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন