- ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
একসময় নিয়মিত ধূমপান ও মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন অভিনেতা ও মডেল মিলিন্দ সুমন। সেই জীবন থেকে বেরিয়ে এসে এখন শরীরচর্চা ও দৌড়ানোর জন্য পরিচিত তিনি। সম্প্রতি নিজের অতীতের আসক্তি, তা কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং ফিটনেস নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেতা।
গত ৩০ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া টুডে হেলথ ওয়েলথ সামিটে অংশ নিয়ে মিলিন্দ বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি ধূমপান ছেড়েছেন। মদ্যপানের অভ্যাস থেকেও একসময় বেরিয়ে আসেন। তাঁর ভাষ্য, আসক্তি তৈরি হয়ে গেলে চাইলেই মুহূর্তে তা ছেড়ে দেওয়া যায় না।
মিলিন্দের জীবনে একসময় সাঁতার ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৯ বছর বয়স থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে যুক্ত ছিলেন তিনি। সপ্তাহে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সাঁতার কাটতেন। নিজের ইভেন্টে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পরে মডেলিংয়ের প্রস্তাব তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। পেশা হিসেবে মডেলিং সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকলেও ভালো পারিশ্রমিকের কারণে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তিনি। সাঁতারের নিয়মবদ্ধ জীবন থেকে বেরিয়ে নতুন এক জগতে প্রবেশের পরই ধূমপানের অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা একসময় আসক্তিতে পরিণত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভ্যাস ছাড়তে সক্ষম হন তিনি।
মদ্যপানের অভিজ্ঞতার কথাও সামিটে তুলে ধরেন মিলিন্দ। জানান, একসময় তিনি অনেক মদ্যপান করতেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর মা উশা সুমনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন অভিনেতা। মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরলে অনেক সময় মা তাঁকে ঘরে ঢুকতে দিতেন না। মায়ের সেই কঠোর অবস্থানও অভ্যাসটি ছাড়ার পথে প্রভাব ফেলেছিল বলে জানান তিনি।
তবে অতীতের ওই সময়কে শুধু ভুল হিসেবে দেখেন না মিলিন্দ। তাঁর মতে, সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করেছে। জীবনের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বর্তমানে মিলিন্দকে অনেকেই ফিটনেসের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। নিয়মিত দৌড়ানো ও শরীরচর্চার পাশাপাশি তাঁর জীবনযাপনের সরল ধরনও আলোচনায় আসে। অভিনেতার ভাষ্য, প্রতিদিন শরীরচর্চার জন্য ১০ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় করেন না তিনি। নিয়মিত জিমে যান না, ফিটনেস সাপ্লিমেন্টের ওপরও নির্ভর করেন না।
মিলিন্দের মতে, সুস্থ থাকতে সবার জন্য কঠিন ব্যায়াম বা ব্যয়বহুল জিম জরুরি নয়। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা পছন্দের খেলায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমেও শরীর সক্রিয় রাখা যায়। তাঁর কাছে ফিটনেসের মূল বিষয় হলো ধারাবাহিকতা প্রতিদিন অল্প সময় হলেও শরীরকে সচল রাখা।