- ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। প্রাঞ্জল ঠাকরান (২২) নামের ওই যুবককে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। পুলিশের অভিযোগ, গুলি চালানোর ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ এবং অপরাধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা ছিল প্রাঞ্জলের।
রোববার তাঁকে মুম্বাইয়ের এসপ্ল্যানেড আদালতে হাজির করা হলে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রাঞ্জলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা প্রাঞ্জলের সঙ্গে মামলার মূল অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগ ছিল। শুটারদের কাছে দেশি পিস্তল পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত ১৮ অক্টোবর টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর অভিযুক্তেরা মুম্বাইয়ের কান্দিভলি এলাকা থেকে ট্যাক্সিতে সুরাটে যান। সেখানে রেললাইনের কাছাকাছি অস্ত্র ফেলে ট্রেনে করে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা বলে পুলিশের দাবি।
এক শুটারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ অক্টোবর সুরাট রেলস্টেশনের কাছে ঝোপ থেকে একটি জিগানা পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল এবং ১০টি অব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গুলি চালানোর সময় জিগানা পিস্তলটি আটকে গিয়েছিল। এ সময় দুটি কার্তুজ বাইরে পড়ে যায় বলেও জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে অস্ত্রগুলোর সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র নিশ্চিত করতে সেগুলো ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, শুটারদের জিগানা পিস্তল ব্যবহারের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছিল না। অস্ত্র সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের মধ্যে যোগাযোগের ধরন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে প্রাঞ্জল বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। হোটেলে থাকার বদলে তিনি ইন্দোরের একটি হাসপাতালে রাত কাটাতেন। সেখানে তাঁর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ভাইয়ের চিকিৎসা চলছিল। হোটেলে থাকলে পুলিশ সহজেই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
প্রায় পাঁচ দিন আগে ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য সোনিপত থেকে ইন্দোরে এসেছিলেন প্রাঞ্জল। তাঁর ভাইকে রোবোটিক অস্ত্রোপচারের জন্য মালওয়া মিল চৌরাস্তার কাছে অঙ্কুর স্টেপ-ডাউন সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল বলে পুলিশের তথ্য।
প্রাঞ্জলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ইন্দোর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর দুই বাহিনীর সমন্বয়ে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মুম্বাই পুলিশের চারজন কর্মকর্তা এবং ইন্দোর পুলিশের আটজন সদস্য অংশ নেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর প্রায় ১৫ দিন আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন প্রাঞ্জল। ভিডিওতে তাঁর গলায় বুলেট ঝোলানো এবং হাতে পিস্তল দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অনুরাগী বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চে হরিয়ানার পানিপথে একটি মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানে গুলি চালানোর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ভারতে একাধিক আলোচিত অপরাধের তদন্তে জিগানা পিস্তলের নাম উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে গ্যাংস্টার আতিক আহমেদ ও তাঁর ভাই আশরাফ হত্যাকাণ্ডেও এই ধরনের পিস্তল ব্যবহারের কথা জানা যায়। এ ছাড়া বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ড এবং বলিউড অভিনেতা সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনাতেও জিগানা পিস্তল ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায়ও একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করছে। অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী এবং হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মুম্বাই পুলিশ।