- ২২ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) হরিয়ানার সোনিপত জেলার বড়োদা গ্রাম থেকে অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাটক (১৮) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটজনে।
মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার পেছনে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র কাজ করেছে। এমনকি হামলার মূল লক্ষ্য টাইগার শ্রফ ছিলেন কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশের সন্দেহ, চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিলেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস এবং কাছাকাছি থাকা এক অটোরিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলার পরদিন রাজস্থানের কোটা জংশন থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন ফুল সিং, রেহান ও ঋত্বিক। ফুল সিং ও রেহান হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা। ঋত্বিকের বাড়ি বিহারের বেগুসরাইয়ে। পুলিশের অভিযোগ, এই তিনজনই সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অস্ত্র সংগ্রহ ও তা মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় হরিয়ানার কুণাল (২১) ও সুমিত (১৯) এবং উত্তর প্রদেশের রাধা ও ববিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, কুণালের সঙ্গে অনিল পণ্ডিত নামের এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি এই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তাঁর সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের অভিযোগ, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুণাল ও সুমিত অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০টি কার্তুজ সংগ্রহ করেন। পরে অস্ত্রগুলো মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় রাধা ও ববিতাকে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর দুই নারী ট্রেনে করে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের দিল্লির নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে পৌঁছে দেন কুণাল। পিস্তলটি রাধার ব্যাগে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা। যাত্রাপথে এনক্রিপ্টেড বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন কুণাল।
১৭ অক্টোবর মুম্বাইয়ে পৌঁছে তাঁরা দাদর রেলস্টেশনে নামেন এবং একটি হোটেলে ওঠেন। পরে এক নাবালক হোটেলের কাছ থেকে রাধার ব্যাগটি নিয়ে যায় বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। ওই ব্যাগেই অস্ত্র ছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের অভিযোগ, গুলি চালানোর পরও চক্রটির সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। হামলাকারীরা মুম্বাইয়ে আটকা পড়েছেন জানিয়ে তাঁদের পালানোর ব্যবস্থা করতে কুণালকে নির্দেশ দেন অনিল পণ্ডিত এমন তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর রাধা ও ববিতা দাদর-হরিদ্বার এক্সপ্রেসে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। ২০ অক্টোবর নয়াদিল্লি রেলস্টেশন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে হরিয়ানার সোনিপত থেকে কুণাল ও সুমিতকে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, কোটা জংশন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া তিন সন্দেহভাজন জয়পুরের দিকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল সড়কপথে দিল্লি হয়ে নেপালে চলে যাওয়া।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কেউ কেউ টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। রেহানের মাধ্যমে ফুল সিং ও ঋত্বিককে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলে পুলিশের অভিযোগ।
তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণ। মুম্বাই পুলিশের সন্দেহ, চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিলেন সালমান খান। তাঁর বাড়ির আশপাশে নজরদারিও চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
পুলিশের ধারণা, সালমান খানের বাড়িতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকায় পরিকল্পনাকারীরা বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে টাইগার শ্রফকে বেছে নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী দল।
ঘটনার পর সালমান খানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে সশস্ত্র কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯(১) ও ৩(৫) ধারায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, তাঁদের যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং হামলার পরিকল্পনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।