- ১৫ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা ওপেনএআই এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল–এর মধ্যে অংশীদারত্ব নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় অ্যাপলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ওপেনএআই—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই ইতোমধ্যে একটি বাইরের আইন সংস্থার সহায়তা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি ভঙ্গের নোটিশ পাঠানোর বিষয়ও বিবেচনা করছে। তবে বিষয়টি এখনই আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে। ওপেনএআইয়ের চলমান আইনি লড়াই শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
২০২৪ সালে Worldwide Developers Conference–এ অ্যাপল ও ওপেনএআইয়ের অংশীদারত্ব ঘোষণা করা হয়। ওই চুক্তির আওতায় আইফোন ও অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসে সিরির মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুযোগ যুক্ত হয়। পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল ইন্টেলিজেন্স সুবিধার মাধ্যমে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করেও ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিতে পারতেন।
তবে ওপেনএআইয়ের প্রত্যাশা ছিল, অ্যাপলের বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তির মাধ্যমে তাদের অর্থের বিনিময়ে দেওয়া সাবস্ক্রিপশন সেবা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, অ্যাপল তাদের সুবিধাগুলোকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি এবং সেগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে সহজভাবে উপস্থাপনও করা হয়নি।
অন্যদিকে, অ্যাপলের পক্ষ থেকেও কিছু অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে ওপেনএআইয়ের নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার খাতে প্রবেশের উদ্যোগও অ্যাপলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এই প্রকল্পে অ্যাপলের সাবেক ডিজাইন প্রধান Jony Ive–এর সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রযুক্তি খাতে অ্যাপলের সঙ্গে অংশীদারত্ব অনেক সময়ই জটিল হয়ে ওঠে। অতীতে গুগল, অ্যাডোবি এবং স্পটিফাই–এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানও অ্যাপলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধে জড়িয়েছে।
একসময় আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গুগল ম্যাপস। কিন্তু পরে অ্যাপল নিজস্ব ম্যাপস সেবা চালু করলে দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে টানাপড়েন বাড়ে। একইভাবে স্টিভ জবসের সময়ে অ্যাডোবির ফ্ল্যাশ প্রযুক্তিকে আইফোনে সমর্থন না দেওয়াও বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। অন্যদিকে স্পটিফাই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, অ্যাপল নিজেদের সংগীত সেবাকে সুবিধা দিতে অ্যাপ স্টোরের নীতিমালা ব্যবহার করেছে।
বর্তমানে ওপেনএআইয়ের সামনেও একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন Elon Musk। এছাড়া বড় বিনিয়োগকারী মাইক্রোসফট–এর সঙ্গেও কৌশলগত বিষয়ে মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই ও অ্যাপলের এই টানাপড়েন ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।