- ১৪ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের দিকে। কয়েক সপ্তাহ আগে একই মাইলফলক স্পর্শ করে দেশটির আরেক প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে গত বছরও কোম্পানিটির শেয়ার প্রায় ২৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। মূলত এআই সার্ভারে ব্যবহৃত উচ্চ ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপ এবং প্রচলিত মেমোরি চিপের বাড়তি চাহিদাই এই উত্থানের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাত্র ১৬ মাস আগে যেখানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও কম, সেখানে বর্তমানে তা প্রায় ৯৪২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করবে এসকে হাইনিক্স।
এটি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি কোম্পানি থাকবে। বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা টিএসএমসি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৮৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির প্রসারে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেখানে বিপুল বিনিয়োগের কারণে ঝুঁকির মুখে, সেখানে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি এআই অবকাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার কসপিও চলতি বছরে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সূচকটি এ বছর ৮৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শ্রমিক অসন্তোষ থেকেও কিছুটা সুবিধা পেতে পারে এসকে হাইনিক্স। বোনাস বৈষম্যের অভিযোগে স্যামসাংয়ের শ্রমিক ইউনিয়ন আগামী ২১ মে থেকে ১৮ দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট পুরো চিপ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া এই প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।