Friday, May 15, 2026

নিজেই নিজেকে উন্নত করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন স্টার্টআপে রিচার্ড সোচারের বড় উদ্যোগ


ছবিঃ রিচার্ড সোচার (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে রিকারসিভ সুপারইন্টেলিজেন্স নামের একটি নতুন স্টার্টআপ। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা, যা নিজেই নিজের দুর্বলতা শনাক্ত করে নিজেকে আরও উন্নত করতে পারবে—তাও মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে ৬৫ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন রিচার্ড সোচার, যিনি আগে ইউ ডটকম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ইমেজনেট প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

নতুন এই উদ্যোগে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন আরও কয়েকজন পরিচিত গবেষক ও উদ্যোক্তা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পিটার নরভিগ এবং ক্রেস্টার সহপ্রতিষ্ঠাতা টিম শি।

প্রতিষ্ঠানটির মূল ধারণা হচ্ছে “রিকারসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট” বা পুনরাবৃত্ত স্ব-উন্নয়ন। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই গবেষণা করবে, নতুন ধারণা তৈরি করবে, তা বাস্তবায়ন করবে এবং ফল যাচাই করে আবার নিজেকে আরও উন্নত করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার অন্যতম বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

রিচার্ড সোচার জানিয়েছেন, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজের উন্নয়ন ঘটালেও সেটি প্রকৃত অর্থে স্বয়ংক্রিয় স্ব-উন্নয়ন নয়। তাঁদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা নিজস্ব সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারবে এবং নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়ে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে।

এই প্রকল্পে “ওপেন-এন্ডেডনেস” ধারণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গবেষকদের ভাষায়, এটি এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে না থেকে নতুন নতুন সম্ভাবনা ও সমাধান খুঁজতে থাকবে। প্রকৃতির বিবর্তন প্রক্রিয়া থেকে এই ধারণার অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে গবেষকেরা “রেইনবো টিমিং” ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন। এখানে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পরীক্ষা করবে এবং দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। এরপর সেই দুর্বলতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে প্রথম ব্যবস্থাটিকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করা হবে। এই প্রক্রিয়া লক্ষ লক্ষ বার চলতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

রিচার্ড সোচার মনে করেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠবে কম্পিউটিং শক্তি। কোন সমস্যার সমাধানে কত পরিমাণ প্রসেসিং ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে, সেটিই একসময় বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্যানসার বা ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসা গবেষণার কথা উল্লেখ করেন।

যদিও অনেকেই নতুন প্রজন্মের গবেষণাকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে “নিওল্যাব” হিসেবে দেখছেন, তবে সোচার এই পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তাঁর ভাষায়, তাঁরা শুধু গবেষণাগার হতে চান না; বরং বাস্তব জীবনে ব্যবহারযোগ্য এবং মানুষের উপকারে আসে এমন প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করতে চান।

তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পণ্য বাজারে আনতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কয়েক বছরের বদলে আগামী কয়েক প্রান্তিকের মধ্যেই নতুন কিছু দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, যদি রিকারসিভ সুপারইন্টেলিজেন্স তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সফল হয়, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন