- ১২ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা করার উদ্যোগকে ‘হাফ-বেকড’ বা অসম্পূর্ণ সংস্কার বলে মন্তব্য করেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া সংস্কার কার্যকর না হলে তা উল্টো নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সোমবার রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠির আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও করনীতি নির্ধারণে কাদের ভূমিকা থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি মনে করেন, শুধু আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে করনীতি সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। বর্তমানে এ সংক্রান্ত বিল সংসদে রয়েছে এবং তা আরও কার্যকর করতে একটি কমিটি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও জনস্বার্থ যাচাই করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্প ব্যক্তিস্বার্থ বা দুর্নীতির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক লাভ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগের রিটার্নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও সেবা খাতে অতিরিক্ত সরাসরি যোগাযোগনির্ভর ব্যবস্থাই ঘুষের বড় কারণ। তিনি জানান, ব্যবসা সহজীকরণে বাধা সৃষ্টি করে এমন প্রক্রিয়াগুলো ধীরে ধীরে অপ্রয়োজনীয় করে তোলা হবে।
দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রবাসী আয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সব শর্ত দেশের অর্থনীতির জন্য উপযোগী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুঁজিবাজার নিয়ে বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এ বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনার বদলে পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় নেপাল থেকে ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির আলোচনা চলছে। পাশাপাশি গ্যাস মজুত ও আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, করনীতি, জ্বালানি সংকট এবং ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।