Thursday, June 11, 2026

ওপেনডোরের ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রযুক্তি খাতে নতুন বিতর্ক


ছবিঃ ওপেনডোর (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন হোম-বাইং প্রতিষ্ঠান ওপেনডোর ভারতে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে দেশটিতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পর এমন সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং খাতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী অফশোর কর্মসংস্থানের প্রচলিত কাঠামোকে বদলে দিতে শুরু করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কাজ নেজাটিয়ান এক ঘোষণায় জানান, গ্রাহকদের কাছাকাছি থেকে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ছোট আকারের এআই-নির্ভর কর্মদল গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি কতজন কর্মী এ সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়েছেন বা এআই কতটা ভূমিকা রেখেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

ওপেনডোর ২০২৪ সালে ভারতের চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে অফিস চালু করে এবং সেখানে প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োগ দেয়। মূলত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কাজ পরিচালনার জন্য এই টিম গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক পর্যায়েই ব্যয় সংকোচন এবং কর্মীসংখ্যা হ্রাসের নীতি অনুসরণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র ভারতের কার্যক্রম বন্ধ হওয়াকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা এবং ব্যবসায়িক চাপে ওপেনডোর আগে থেকেই কর্মীসংখ্যা কমিয়ে আসছিল। তবুও কোম্পানির ঘোষণায় এআই-নির্ভর কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়ায় বিষয়টি প্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে এমন অনেক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হচ্ছে, যা আগে বিপুল সংখ্যক কর্মীর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলো কম জনবল নিয়েই একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

ভারত বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) বাজারগুলোর একটি। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপিত দুই হাজারেরও বেশি কেন্দ্র দেশটিতে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ কর্মরত। তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতি, গবেষণা ও বিভিন্ন সহায়ক সেবার জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয়তা যদি দ্রুত বিস্তার লাভ করে, তাহলে শ্রমনির্ভর আউটসোর্সিং শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলো মানবসম্পদের পাশাপাশি সফটওয়্যার ও এআই প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী অপারেশন পরিচালনার দিকে ঝুঁকতে পারে।

ওপেনডোরের এই সিদ্ধান্তকে তাই অনেকে একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের ঘটনা হিসেবে দেখলেও, অন্যরা এটিকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান ও আউটসোর্সিং শিল্পে আসন্ন বড় পরিবর্তনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন