- ১২ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদা আদায়, দোকান দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের সামনে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আটজন এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারী সাতজন রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের পর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মো. সোহেল ও আজিম ওরফে ‘গুন্ডা আজিম’ বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতের দোকান ও ভ্যানগাড়ি থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
ছাত্রদলের দাবি, একপর্যায়ে কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবদল কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সুমন সিকদার বলেন, তাঁরা ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চাঁদা আদায়ের ঘটনা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপর প্রথমে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং পরে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সায়মন ইসলামও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, দোকানদারদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের ওপর হামলা করা হয় এবং তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাগর খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা বেশ কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে দেখেছেন। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আহতদের মধ্যে প্রিন্স খন্দকার, সুমন সিকদার, সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুসফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলাম, শাকিব হাসান ও ইমরান হোসেনের নাম জানানো হয়েছে।
তবে ছাত্রদলের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নিউমার্কেট থানা যুবদল। তাদের দাবি, তারা কোনো চাঁদাবাজি বা দোকান দখলের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সদস্য মার্কেট বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে দোকান দখল ও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন।
নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাদের ভাষ্য, তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আপত্তি জানান এবং পরিস্থিতি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে তাঁরা প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের গলিতে থাকা যুবদল কার্যালয়ে চলে যান।
তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার দিকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মী ওই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় কার্যালয়ের টেলিভিশন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলমের ছবি ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করেছে যুবদল।
যুবদলের পক্ষ থেকে সংঘর্ষে আহত হিসেবে মো. জাকির হোসেন, মো. সুজন, মো. সোহেল, সুমন, শাহ আলম, ইদ্রিস, রাকিব ও মো. সুমন মিয়ার নাম জানানো হয়েছে।
দুই পক্ষই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন সংঘর্ষের খবর পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিউমার্কেট এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি বলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংগঠনের দুই পক্ষের এই সংঘর্ষে নিউমার্কেট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।