- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের অভিযানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে নেত্রকোনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, অভিযোগের পর থেকেই রিপন আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ও অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতিবেশী। অভিযোগ রয়েছে, কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে রিপন দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে ভিডিওতে কাজ করার প্রলোভন দেখাতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবও দেওয়া হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি কথা বলার কথা বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করা হয়।
ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর রিপন মিয়াকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বৈঠকের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের নিষ্পত্তি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত সবার সামনে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চান। পরে তাকে অর্থদণ্ড এবং এলাকা ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য। তবে পরে ভুক্তভোগীর পরিবার আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়ে তাদের কাছে আসেন। সালিশে বসার পরও পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক যোগাযোগ ছিল।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনেন। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। তার পরিচালিত ফেসবুক পেজে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।
এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।