- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্ব আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে দেশের তিন পার্বত্য জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, আনসার ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনবহুল এলাকা এবং কৌশলগত পয়েন্টে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত টহল ও নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতার কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের মতে, যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী মাঝে মধ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের নিবিড় তৎপরতায় এমন অপচেষ্টা কার্যকর হতে পারেনি।
আগামী ৯ আগস্ট পালিত হবে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। এ উপলক্ষে যাতে কোনো পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব ঘটনার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক বাসিন্দা।
খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যটনসমৃদ্ধ এই জেলায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উস্কানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে নিয়মিত সাইবার নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
এদিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি অটুট রাখা সবার যৌথ দায়িত্ব। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহাবস্থান বজায় রাখতে প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করছেন। কেউ যদি বিভেদ বা সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা আইনানুগভাবে মোকাবিলা করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্যাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্প্রীতির পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। প্রশাসনের প্রত্যাশা, সব পক্ষের সহযোগিতায় পার্বত্যাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং বিশ্ব আদিবাসী দিবসও নির্বিঘ্নে উদ্যাপিত হবে।