- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। সিলেট
একই সকালে দেশের দুটি মহাসড়কে ঘটে যাওয়া পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অন্তত ১৬ জনের। এর মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৯ জন এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাসের চাপায় সাত দিনমজুর নিহত হয়েছেন। দুটি ঘটনাতেই আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
সকাল ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক ছেড়ে পাশের খাদে পড়ে যায়।
ওসমানীনগর থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলেই সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত তিন বছরের একটি শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়ার সিল্কিবান্ধা এলাকায় নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ দিনমজুরদের ওপর উঠে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হালকা বৃষ্টির মধ্যে বাসটি প্রথমে সড়কের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা যান। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আমিরুল ইসলাম ও নূর আলম, বগুড়া সদরের ফাঁপোড় এলাকার বেলাল হোসেন এবং জয়পুরহাটের তাজমুল।
দুটি দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহাসড়কে সাময়িক যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের কার্যক্রমও চলছে।
একই দিনে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে প্রাণঘাতী এসব দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।