Thursday, July 23, 2026

নাইজেরিয়ার গ্রামে ভয়াবহ হামলা, নির্বিচারে গুলিতে নিহত ২০


ছবিঃ ওগুন রাজ্য, নাইজেরিয়া সফরের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা (সংগৃহীত । আল জাজিরা /সোদিক আদেলাকুন/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার একাধিক গ্রামে চালানো এই হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের দাবি, হামলাকারীরা নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, তালাতা মাফারা স্থানীয় সরকার এলাকার সাউনা জেলার প্রতিনিধি নাসিরু লাওয়ালি জানান, বুধবার দুপুর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে বিপুলসংখ্যক অস্ত্রধারী হামলাকারী বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে পড়ে। তারা পথে যাকে পেয়েছে, তাকেই লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং অনেকে আহত হন।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এমন হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গ্রামে হামলা, গবাদিপশু লুট এবং মুক্তিপণের জন্য মানুষ অপহরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এর একদিন আগে দেশটির কোয়ারা অঙ্গরাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত তিনজন সন্দেহভাজন সশস্ত্র হামলাকারী নিহত হয়। অভিযানে অপহৃত এক ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নাইজেরিয়ায় অপহরণ এখন একটি বড় ধরনের অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষককেও টার্গেট করছে।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারামের দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী ১৬ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে।

চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওইও অঙ্গরাজ্যের তিনটি বিদ্যালয় থেকে অপহৃত কয়েক ডজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে ৫৬ দিন পর উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় আটজন সন্দেহভাজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযানে আরও কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, অপহরণকারীরা জিম্মিদের ব্যবহার করে কারাগারে থাকা নিজেদের কয়েকজন নেতার মুক্তি আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মুসা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে এমন পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে জামফারার সর্বশেষ হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্য এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরীহ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন