- ২৪ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে অল্প ব্যবধানে পাস হয়েছে ২০২৭ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ), যার আওতায় প্রায় ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিলটি পাস হওয়ার পরই এর ব্যয়ভার, ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং প্রশাসনের সামরিক নীতিকে ঘিরে ওয়াশিংটনে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ২১৬ জন প্রতিনিধি, বিপক্ষে ভোট দেন ২১২ জন। দলীয় অবস্থানই মূলত ভোটের ফল নির্ধারণ করেছে। তবে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে একমত হয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন, আবার কয়েকজন রিপাবলিকান নিজ দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর বিরোধিতা করেন।
এই এনডিএএ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনার অংশ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট আগের বছরের প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান সামরিক অভিযানের কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন।
তবে বিলটির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিধান। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি করতে পারে এবং দেশটির কৌশলগত স্বার্থ নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের অবস্থানের সমালোচনা করে আসছেন, ভোটের পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিলটির সংশ্লিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার আরও গভীর সংযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিনেটে বিলটি বর্তমান রূপে অনুমোদন পাবে না।
এদিকে ডেমোক্র্যাটরা বিলটির বিপুল ব্যয়ের সমালোচনা করে বলছেন, এমন সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে এত বড় বরাদ্দের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যখন সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ চলছে। তাদের মতে, এই অগ্রাধিকার সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিলটি এখন সিনেটে যাবে, যেখানে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতোমধ্যে এর ব্যয়, ইউক্রেন-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অন্যান্য বিতর্কিত বিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এর আগে সিনেটে বিলটি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাবও আটকে দেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত এনডিএএতে সামরিক ব্যয়ের পাশাপাশি ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয় এবং সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট (SAVE America Act)-এর মতো বিতর্কিত নির্বাচনসংক্রান্ত বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।